চরভদ্রাসনে পদ্মা বাঁধ প্রকল্পে কোটি টাকা উধাও,ভাঙনের কবলে মেইন সড়ক! - আজকের খবর

আজকের বিশ্বের সব খবরাখবর

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Monday, August 27, 2018

চরভদ্রাসনে পদ্মা বাঁধ প্রকল্পে কোটি টাকা উধাও,ভাঙনের কবলে মেইন সড়ক!

নাজমুল হাসান নিরব,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ-ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের এম.পি ডাঙ্গী, গ্রামে পাকা রাস্তা গত বৃহস্পতিবার পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।তারও সপ্তাহ খানেক আগে বিলীন হয়ে গেছে ফাজেলখার ডাংগি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাত্র ১৫ দিন পুর্বে উক্ত রাস্তা রক্ষার জন্য প্রায় এক কোটি টাকা ব্যায়ে জিও বালুর ব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্প কাজ করেছেন ফরিদপুর পাউবো। একই সাথে পার্শ্ববতী ফাজেলার ডাঙ্গী গ্রাম ও বালিয়া ডাঙ্গী গ্রামের ভাঙন কবলিত পদ্মা পারে জিও বালুর ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়। এ প্রকল্পর আওতায় সর্বমোট ২২ হাজার ৫শ’ জিও বালুর ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়। 

    কিন্ত সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নিম্নমানের বালু ব্যাবহারের ফলে প্রকল্পটি কোনো কাজে আসেনি বলে  অভিযোগের ঝড় ওঠেছে পুরো উপজেলায়। পদ্মা নদীর অপর পারের চর থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অত্যান্ত নিম্নমানের বালু উত্তোলনের পর তা ট্রলার ও বলগেট মেশিন দিয়ে ভাঙন কবলিত পদ্মা পারে ফেলা হয়। এসব বালু পরিমানে কম দিয়ে প্রস্তুত করা হয় জিও ব্যাগ। আর এসব প্রস্তুুতকৃত জিও ব্যাগ পদ্মা পারে কম পরিমানে ডাম্পিং করে অধিক দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর। ফলে নিম্নমানের মান বালু ভর্তি জিও ব্যাগ পদ্মা নদীর খড়ো স্রোতের আঘাত প্রতিরোধ করতে না পেরে পুরো প্রকল্প ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে বলে দেখা গেছে।
    উপজেলার এমপি ডাঙ্গী গ্রামে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার শেখ মোনসুর, শেখ সালাম ও শেখ নুরুদ্দিন সহ আরো অনেকে জানায়, “ মাত্র পনের দিন আগে উপজেলার মেইন সড়ক, স্কুল, মসজিদ ও মাদ্রাসা রক্ষার জন্য জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। উক্ত পদ্মা রক্ষা কাজ চলাকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে আমরা গ্রামবাসী বার বার মৌখিক অভিযোগ করেছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ফরিদপুর পাউবো’র কর্মকর্তারা আমাদের কোনো কথাই কর্ণপাত করেন নাই। ফলে এক কোটি টাকার পদ্মা রক্ষা প্রকল্পটি এলাকার কোনো কাজে আসল না ”। এলাকার তরুন সমাজের দাবী “সর্ম্পুন অনিয়মতান্ত্রিক ও অপরিকল্পিতভাবে বালুর বস্তা যেখানে সেখানে ফেলা হয়,বাঁধ যেভাবে হয় সেভাবে কোন বস্তা ফেলা হয় নাই,টাকা পায়ছে আর লুটপাট কইরা খায়ছে,এক কোটি টাকা তো বাড়ির কাছে না,কই বিন্দু পরিমান ভাঙন তো কমল না”।
 গত শুক্রবার ভাঙন কবলিত উপজেলার প্রধান সড়কটি পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, “ ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনিয়ম করলে তাকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পেলে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে”।
 জানা যায়, প্রতিটি জিও ব্যাগ ১৭৫ কেজি ওজন সম্পন্ন শুকনো ও মানসম্মত বালু দিয়ে প্রস্তুত করার বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা তা অনিয়ম করে পদ্মা নদীর ভিজা কাঁদাবালু মাটি জিও ব্যাগের অর্ধেক পরিমানে ঢুকিয়ে কোনো ওজন না দিয়ে পদ্মা পারে ডাম্পিং করা হয়। এ প্রকল্পর আওতায় উপজেলা সদরে পদ্মা নদীর এমপি ডাঙ্গী গ্রামের মেইন সড়কের পাশে পদ্মা পারে দুই দফায় মোট ১১ হাজার ৫শ’ জিও বালুর ব্যাগ ও ফাজেলখার ডাঙ্গী, বালিয়া ডাঙ্গী গ্রামের পদ্মা পারে আরও ১১ হাজার সহ সর্বমোট ২২ হাজার ৫শ’ জিও বালুর ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়। এ প্রকল্পর কাজ করার জন্য প্রায় ৯৪ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দ দেন ফরিদপুর পাউবো।
এ প্রকল্প কাজের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ফরিদপুর পাউবো’র উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, “ জরুরী ভিক্তিতে পদ্মা রক্ষা প্রকল্পর কাজ করার সময় মান সম্মত বালু পাওয়া যায় না। তাই কাজটি সম্পন্ন করার স্বার্থে লোকাল বালু ব্যবহার করতে হয়েছে”। আর উপজেলা পদ্মা রক্ষা প্রকল্প কাজের ঠিকাদার ও নিলয় এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী মানিক মিয়া বলেন, “ ভরা বর্ষা মৌসুমে শুকনো বালু ম্যানেজ করা সম্ভব হয় না। তাই বলগেইট মেশিনের মাধ্যমে পদ্মা থেকে বালু তুলে আনতে হয়”।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages